বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশ ও সংস্থা ত্রাণ পাঠিয়েছে। ত্রাণ পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে আরও অনেকে। শুক্রবার ইরান, ভারত (দ্বিতীয় চালান) ও ইন্দোনেশিয়া (দ্বিতীয় চালান) ত্রাণ পাঠিয়েছে। এদিকে মুসলিম উম্মাহর নেতা হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবও রোহিঙ্গাদের জন্য বিপুল পরিমাণ ত্রাণ পাঠানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে এ ত্রাণ পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ত্রান নিয়ে শাহ আমানতে ইরানের বিমান : শুক্রবার ৪০ টন ত্রাণ নিয়ে ইরানের একটি সামরিক বিমান চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। একই বিমানে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী (এশিয়া-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চল) ইব্রাহিম রাহিমপুর এবং পার্লামেন্ট মেম্বার চেনারানীসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও এসেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদল বিমানবন্দরে ইরানি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে ত্রাণসামগ্রী গ্রহণ করেন। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে বিস্কুট, তাঁবু, কম্বল, ওষুধ, খেজুর ও সাবান। ইরানি কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, ইরান সরকার পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য আরও ত্রাণসামগ্রী পাঠাবে।
ত্রাণ হস্তান্তরকালে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইরান সরকার সব সময় নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর পাশে ছিল, আছে, থাকবে। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার যে উদাহরণ বাংলাদেশ সৃষ্টি তা সত্যিই অনন্য। ইরান এ উদ্যোগে বাংলাদেশের পাশে থাকবে।’
ত্রাণ গ্রহণকালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার আরাকানে জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে একটি সেফ জোন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।’ নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় তিনি ইরান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। ত্রাণ গ্রহণের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভয়েসি, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) হাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ভারতীয় ত্রাণের দ্বিতীয় চালন চট্টগ্রামে : শুক্রবার ৫০ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ভারতের বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছে বলে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে। এটি রোহিঙ্গাদের জন্যে ভারতীয় ত্রাণের দ্বিতীয় চালান। প্রথম চালানটি বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম পৌঁছে। ওই চালানে ত্রাণসামগ্রী ছিল ৫৩ টন। বৃহস্পতিবার ভারত ছাড়াও মরক্কো ও ইন্দোনেশিয়ার ত্রাণসামগ্রী চট্টগ্রামে পৌঁছায়।
ইন্দোনেশিয়ার ত্রাণ : শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ৭ টন ত্রাণ নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার একটি বিমান চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। এটি ইন্দোনেশিয়ার ত্রাণের দ্বিতীয় চালান।






