‘ডায়াবেটিস ‘ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও ওষুধের পাশাপাশি বিনামূল্যে ইনসুলিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল কর্মসূচির আওতায় একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু হয়েছে। আক্রান্ত রোগীরা বিনামূল্যে পাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও ওষুধ।
গোলটেবিল আলোচনায় স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও ইনসুলিন বিতরণের পাশাপাশি চিকিৎসার গুণগত মান বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, জনবল বাড়ানো, ওষুধের দাম কমানো, শরীর চর্চার জন্য পর্যাপ্ত মাঠের ব্যবস্থা, জনসচেতনতা বাড়ানোসহ বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। তাদের অভিমত, সরকারের একার পক্ষে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এজন্য বেসরকারি সংস্থা, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয়সহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
ডায়াবেটিস এমনই একটি নীরব ঘাতক। দেশের শহরাঞ্চলের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই এ বিষয়ে সচেতন নয়। আবার অনেক মানুষ অর্থাভাবে এ রোগের চিকিৎসা নেন না। এসব মানুষের জন্য দেশে সব সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস রোগের প্রায় সব ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
শিশুরা এখন খেলাধুলার পরিবর্তে আইফোন, ট্যাব, কম্পিউটারে গেম খেলতে পছন্দ করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় পান ও ফাস্টফুড গ্রহণ করছে এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সুতরাং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে তাদের এই অভ্যাসের পরিবর্তন করতেই হবে। এ জন্য অভিভাবকদের দায়িত্ব নিতে হবে। হাঁটাচলা, শারীরিক ব্যায়াম ও পরিশ্রম বাড়াতে হবে। অন্যথায় বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ইনসুলিন বিতরণের মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ কিংবা প্রতিরোধে করা সম্ভব হবে না। এজন্য সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। এ রোগের কারণে প্রতি ৮ সেকেন্ডে একজন মানুষ মারা যাচ্ছেন। ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৮৪ লাখ ডায়াবেটিস রোগী আছে। ২০৪৫ সাল নাগাদ দেশের দেড় কোটি মানুষের ডায়াবেটিসে আক্রান্তের আশঙ্কা রয়েছে।
সারাদেশে ব্যাপক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও ওষুধ বিনামূল্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে বিনামূল্যে ইনসুলিন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে সরকার।
মাতৃগর্ভ থেকেও অনেক শিশু ডায়াবেটিস নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। সুতরাং মায়েদের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবতে হবে। সোহেল ডায়াবেটিস রোগীদের ওষুধের সরবরাহ বাড়াতে হবে।
ডায়াবেটিস চিকিৎসায় নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও জ্ঞানের অভাব আছে। দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি করতে হবে। ডায়াবেটিসের মানসম্মত ও টেকসই চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য ব্যবহার করে পরিকল্পনা করতে হবে। বছরে দু’বার ডায়াবেটিস শনাক্তমূলক কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ দুটোই আমাদের করতে হবে। সরকারের একার পক্ষে কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রয়োজন। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
তাই “বর্তমান ও আগামীর ভাবনা ডায়াবেটিস চিকিৎসা”






